Saturday, 27 December 2025

শুভেন্দুর কেন্দ্রে অভিষেকের 'সেবাশ্রয়'! কেন নন্দীগ্রাম


ডায়মন্ড হারবারের বাইরে এতদিন 'সেবাশ্রয়' প্রকল্প নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই সীমারেখা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আর যে জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছে, তা নিছক কোনও এলাকা নয়, নন্দীগ্রাম। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র, যে কেন্দ্র একসময় বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে নাটকীয় মোড় এনেছিল।
তৃণমূল সূত্রের খবর, জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই নন্দীগ্রামের দু'টি ব্লকে 'সেবাশ্রয়' শিবির চালু করার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। একাধিক দিন ধরে চলবে এই শিবির, যেখানে মূলত স্বাস্থ্য পরিষেবাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের জন্য নানা সুবিধা দেওয়া হবে। এই কর্মসূচির সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি যুক্ত থাকার সম্ভাবনাই বেশি-কারণ, গোটা পরিকল্পনার নেপথ্য রূপকার তিনিই।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধুই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নয়, বরং সুস্পষ্ট রাজনৈতিক কৌশল। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম ছিল তৃণমূলের কাছে সবচেয়ে সংবেদনশীল কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে হেরে যাওয়ার পর যে প্রতীকী অভিঘাত তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। অভিষেকের এই পদক্ষেপ সেই অসম্পূর্ণ অঙ্ক মেলানোর প্রয়াস বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের মতে, নন্দীগ্রামে এই শিবির চালু করে দুটি বার্তা দিতে চাওয়া হচ্ছে। প্রথমত, বিরোধী দলনেতার রাজনৈতিক দুর্গে গিয়ে সংগঠনের উপস্থিতি জোরালো করা। দ্বিতীয়ত, সাধারণ মানুষের কাছে বোঝানো-ভোটের ফল যাই হোক, পরিষেবার প্রশ্নে কোনও বিভাজন নেই। সরকার ও শাসকদল সকলের জন্যই কাজ করছে।

ডায়মন্ড হারবারে 'সেবাশ্রয়' প্রকল্প ইতিমধ্যেই পরিচিত নাম। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা তো বটেই, একসময় উত্তরবঙ্গ থেকেও মানুষ সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এসেছিলেন। সেই সাফল্যের পর প্রকল্পটিকে আরও বিস্তৃত করার ভাবনা যে তৈরি হবে, তা অনুমেয়ই ছিল। তবে নন্দীগ্রামকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে যে তাৎপর্যপূর্ণ, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

তৃণমূলের অন্দরে অনেকেই বলছেন, শুধুমাত্র সংগঠন ঢেলে সাজিয়ে নন্দীগ্রামের মতো কেন্দ্রে প্রভাব ফেলা কঠিন। কোর কমিটি, দায়িত্ব বণ্টন-এসব প্রয়োজনীয় হলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করে না। সেখানে 'সেবাশ্রয়'-এর মতো কর্মসূচি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব সুবিধা পৌঁছে দেয়, যা রাজনৈতিক মনোভাব গঠনে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

অতীতে এই প্রকল্প নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। বিরোধীরা একে কখনও 'সমান্তরাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা' বলে কটাক্ষ করেছে, কখনও রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার বলে আক্রমণ করেছে। এমনকি শাসকদলের মধ্যেও একসময় অস্বস্তি ছিল। তবে অভিষেক বরাবরই দাবি করেছেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো অপরাধ নয়।
নন্দীগ্রামে সেই মডেল প্রয়োগ হলে তার রাজনৈতিক অভিঘাত যে ডায়মন্ড হারবারের চেয়েও গভীর হবে, তা তৃণমূল নেতৃত্বের অনেকেই মানছেন। কারণ, এই কেন্দ্র শুধুই একটি বিধানসভা আসন নয়-এটি এক প্রতীক। আর সেই প্রতীকের মাটিতেই 'সেবা'র মাধ্যমে রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় খুলতে চাইছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।


Friday, 13 December 2024

হায়দরাবাদে ধৃত ‘পুষ্পা‘! অল্লুর গ্রেফতারিতে তোলপাড় সিনে মহল

বলেছিলেন, “ঝুকে গা নেহি…!” কিন্তু আইনের সামনে ঝুঁকতেই হল দক্ষিণী সুপারস্টার অল্লু অর্জুনকে (Allu Arjun)। ৪ তারিখ হায়দরাবাদে ‘পুষ্পা ২’ (Pushpa 2) ছবির প্রিমিয়ারে হুড়োহুড়িতে এক মহিলার মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় অল্লু অর্জুনের নামে এফআইআর দায়ের করা হয়। আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মৃতার পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিলেন ‘পুষ্পা’। কিন্তু মৃতার পরিবার তা নিতে অস্বীকার করে। শুক্রবার, এর জেরে হায়দরাবাদেই গ্রেফতার করা হয় অল্লু অর্জুনকে।

পুলিশের অভিযোগ,প্রশাসনকে না জানিয়েই ‘পুষ্পা ২’ ছবির প্রিমিয়ারে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে উপস্থিত হন অল্লু (Allu Arjun)। ফলে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা করা যায়নি। আর সেখানেই নিজের পুত্রকে নিয়ে যান ওই মহিলা। সেখানেই ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। আহত হয় অল্লু-ভক্ত বালকটিও । এই ঘটনায় অল্লু অর্জুন-সহ হল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। এর বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে গ্রেফতারি এড়াতে চান অল্লু। মৃতার পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিলেন ‘পুষ্পা’। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। হায়দরাবাদেই গ্রেফতার করা হয় অল্লু অর্জুনকে।

Sunday, 8 December 2024

Nandigram: নন্দীগ্রামে নির্বাচনে জয় বিজেপির , তারপরই বাড়িতে ঢুকে তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে 'খুন'

নন্দীগ্রাম : তমলুক কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ব্যাঙ্কের নির্বাচন। যা পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহৎ কৃষি সমবায় ব্যাঙ্ক বলা চলে। জেলা জুড়ে এই নির্বাচনে তৃণমূলের ব্যাপক জয়। আর নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় জয়কার। আর নন্দীগ্রামে সমবায় নির্বাচনে জয়ের পরেই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে বাড়িতে ঢুকে খুনের অভিযোগ।
তৃণমূল কর্মীর পেটে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম শ্রীকান্ত মণ্ডল। তিনি নন্দীগ্রাম ১ব্লকের ৭ নম্বর জলপাই গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যাচ্ছে, নন্দীগ্রামের কালীচরণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ৭ নম্বর জলপাই গ্রামে রবিবার রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, বিজেপি আশ্রীত দুষ্কৃতীদের দ্বারা এই হামলায় আহত হন শ্রীকান্ত মণ্ডল এবং শ্রীমন্ত দুই ভাই। তাঁরা দুজনেই তৃণমূলকর্মী।
রবিবার রাতে বাড়িতে ঢুকে মারধরও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় বলে অভিযোগ। দু’জনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । শ্রীমন্তের চিকিৎসা চলছে। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য ভোরে মৃত্যু হয় শ্রীকান্তের। যদিও বিজেপি এই ঘটনার সাথে যুক্ত নয় বলেই সাফ জানিয়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, এই ঘটনায় বিজেপি কোনওভাবেই জড়িত নয়। এটা তৃণমূলেরই অভ্যন্তরীণ সমীকরণের ফল।

Wednesday, 12 June 2024

তৃণমূল করার অপরাধে শুভেন্দুর বিধানসভায় নন্দীগ্রামের ভেকুটিয়ায় পানীয় জল বন্ধের প্রতিবাদে রাস্তায় ধরনা মহিলাদের

তাদের একমাত্র অপরাধ একুশের বিধানসভা  (Nandigram Assembly Election 2021 ) নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ভোট দিয়েছিলেন।
এরপরে বারেবারে হুমকি পাওয়ার সত্ত্বেও ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন তৃণমূলকে ( Tamluk Loksabha Election 2024 )।
এই প্রখর গরমেও পানীয় জলের জন্য হাহাকার করতে হচ্ছে তাদের। এলাকার বিজেপি নেতারা নাকি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলকে যারা ভোট দেয় তাদের পানীয় জল সরবরাহের কোন দায় নেই আমাদের। 
এলাকার বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী  (Suvendu Adhikari Supporter) বলে পরিচিত বিজেপি নেতাদের এই হুমকির প্রতিবাদ জানাতে এবং পানীয় জলের দাবিতে প্রায় ৪২ ডিগ্রী গরমে খালি কলসি ঘড়া নিয়ে রাস্তায় ধরনা অবস্থানে বসলেন নন্দীগ্রামের মহিলারা ( #Nandigram Women Suffering )।

শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে পানীয় জল থেকে বঞ্চিত ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এক নম্বর বাবুখাঁন বাড়ির বাসিন্দারা।এখানকার বাসিন্দাদের অভিযোগ তিন থেকে চার মাস সারমাসেবল খারাপ হয়ে পড়ে আছে । অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েত অফিসে বারবার মাস-পিটিশন দেওয়া সত্বেও কোনভাবে বেহাল সাব
মারসেবলটি সারানোর কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছেনা।

বাসিন্দাদের অভিযোগ তারা তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক হওয়ার জন্য বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত থেকে সারিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। Nandigram Water Crisis

তাঁরা আরো অভিযোগ করে বলেন পঞ্চায়েত সমিতি বা বিডিও অফিসে অভিযোগ জানানোর পরেও কোনভাবে সারানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এই বঞ্চনার প্রতিবাদে আজ বাধ্য হয়ে এলাকার মহিলারা কলসি-বালতি-মগ-জলের ড্রাম নিয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায় ।তারা হুমকী দিয়েছেন এর পরেও সাবমাসেবল যদি সারানো না হয় তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে।

Monday, 1 April 2024

ভোট করানোর জন্য পার্টি ফান্ডে যথেষ্ট টাকা নেই। সেকথা জানতে পেরে নিজের টাকা....

পূর্ব মেদিনীপুর: ভোট করানোর জন্য পার্টি ফান্ডে যথেষ্ট টাকা নেই। সেকথা জানতে পেরে নিজের পেনশন তুলে ২০ হাজার টাকা প্রার্থীর হাতে দিলেন এক অশীতিপর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

সোমবার প্রচারে বেরিয়েছিলেন তমলুকের সিপিএম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেখানেই তাঁর হাতে এই টাকা তুলে দিলেন বৃদ্ধ চণ্ডীচরণ প্রামাণিক। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ফোন পে, গুগল পে নম্বর দিয়ে সিপিএম নির্বাচনী প্রচারের ফান্ড তুলছে। এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুরে। সেকথা স্বীকারও করে নেন সিপিএম জেলা কমিটির সদস্য নিরঞ্জন সিহি। তাঁর দাবি ছিল, পঞ্চায়েত ভোট, ইনসাফ যাত্রা, ইনসাফ বিগ্রেডের জন্য টাকা খরচ হয়ে গেছে। তাই এখন মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে ভোট করানো ছাড়া উপায় নেই। তাই এই পদ্ধতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। অনেক সমর্থক তাতে সাড়াও দিয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষক সমাজ।
সোমবার সেই দৃশ্যই দেখা গেল বাম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে। এমন যে ঘটবে, তা সায়ন কল্পনাই করতে পারেননি। সকালে নন্দকুমার বাজারে প্রচার গেছিলেন। সেকথা জানতে পেরে শারীরিক অসুস্থতা উপেক্ষা করে রোদে তেতে পুড়ে ওখানে পৌঁছে যান অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক চণ্ডীচরণ প্রামাণিক। এরপর সকলের সামনে বাম প্রার্থীর হাতে কুড়ি হাজার টাকা তুলে দেন। 

নিজেকে বামকর্মী হিসাবে পরিচয় দিয়ে চণ্ডীচরণবাবু বলেন, 'টিভিতে দেখেছি ইলেক্টরাল বন্ড থেকে বিজেপি, তৃণমূল সবচেয়ে বেশি টাকা তুলেছে। বামেরা এক টাকাও নেয়নি। বরং ইলেক্টরাল বন্ডের বিরুদ্ধে মামলা করে সত্যিটা সামনে এনেছে। তাই পেনশন থেকেই দলকে কুড়ি হাজার টাকা দিলাম।'
স্কুল শিক্ষকের এমন দানে অভিভূত সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বামপন্থীরা ইলেক্টরাল বন্ড থেকে টাকা নেয়নি। তাঁরা মামলা করায় মানুষের কাছে আসল ছবি ফুটে উঠেছে। দলের আর্থিক সংকটের খবর পেয়ে এগিয়ে এসেছেন অনেকেই। তাঁদের অর্থেই দল ভোটে লড়ে জিতে দেখাবে। 

সায়ন শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, উনি হাইকোর্টের একজন আইনজীবীও। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি নিয়ে বার বার প্রতিবাদ করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তিনি এবার বামের হয়ে তমলুকের প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি এবার প্রার্থীর করেছে অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়কে। দেবাংশু ভট্টাচার্য প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূলের।



Tuesday, 26 March 2024

নন্দীগ্রামেই হাজির হলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিঅভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়।

বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রথমেই এসেছিলেন নন্দীগ্রামে। লোকসভা ভোটের প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণার পরও সেই নন্দীগ্রামেই হাজির হলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। বার বার নন্দীগ্রামের মাটি ছুঁয়েই কাজ শুরু করছেন কেন? প্রশ্ন করা হয়েছিল তাঁকে। জবাবে অভিজিত্‍ বলেছেন, ''এই নন্দীগ্রাম অনেক ইতিহাস তৈরি করেছে।
আগামী দিনেও দেখুন না নন্দীগ্রাম কী করে!''

অভিজিত্‍ যে লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী সেই তমলুকের অধীনে থাকা সাতটি বিধানসভা ক্ষেত্রের একটি নন্দীগ্রাম। যে নন্দীগ্রাম প্রকৃত অর্থেই বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস বদলে দেওয়ার সাক্ষী। সাক্ষী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থানেরও। তৃণমূলনেত্রীর মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ওঠা যে নন্দীগ্রামের কাঁধে ভর করে, সেই নন্দীগ্রামেই গত বিধানসভা ভোটে হেরেওছেন মমতা। হেরেছেন একদা তাঁর সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সঙ্গী শুভেন্দু অধিকারীর কাছেই। তাই নন্দীগ্রাম যে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ, সে ব্যাপারে অভিজিতের বক্তব্যে কোনও ভুল নেই। তবে কি সে জন্যই নন্দীগ্রামে ফিরে ফিরে যাচ্ছেন অভিজিত্‍? 
গত ৭ মার্চ বিজেপিতে যোগদান করেছেন অভিজিত্‍। তার ঠিক পাঁচ দিনের মাথায় ১২ মার্চ তিনি প্রথম রাজনৈতিক সফরে যান নন্দীগ্রামে। অভিজিত্‍কে যে তমলুক থেকে লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী করা হতে পারে, সে ব্যাপারে জল্পনা শুরু হয়েছে তার অনেক আগে থেকেই। কিন্তু বিজেপির তরফে তখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবু শুভেন্দুকে 'গাইড' হিসাবে সঙ্গে নিয়ে নন্দীগ্রামের জমি দেখে গিয়েছিলেন অভিজিত্‍। কথা বলেছিলেন স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে। বুঝে নিয়েছিলেন মাটি কতটা শক্ত। গিয়েছিলেন শুভেন্দুর বাড়ি 'শান্তিকুঞ্জে'ও। শিশিরের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নিয়েছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি। 

তার ১৫ দিন পর তমলুকের ভোট ময়দানে বিজেপির ঘোষিত লোকসভা প্রার্থী হিসাবে কাজ শুরু করলেন অভিজিত্‍। গত ২৪ মার্চ তমলুকের প্রার্থী হিসাবে অভিজিতের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। তারদু'দিনের মধ্যেই তিনি চলে এলেন সেই নন্দীগ্রামে। আর এ বারও তাঁর সঙ্গী সেই শুভেন্দু। অভিজিত্‍কে পাশে নিয়ে মঙ্গলবার শুভেন্দু বললেন, ''এই নন্দীগ্রামে বসে আমরা ঠিক করেছিলাম শহিদদের প্রতিনিধি ফিরোজা বিবিকে প্রার্থী করা হবে। সেই সিদ্ধান্তে মানুষ সমর্থন করেছিল। এ বারও আমরা মানুষের কথা ভেবে প্রার্থী ঠিক করেছি। এ বারের ভোটের দু'টি ইস্যুর সবচেয়ে বড়টি হল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি। গোটা শিক্ষা দফতরটাই জেলে। তাই আমরা জানি, মানুষ কাকে সমর্থন করবে। আর কাদের ছুড়ে ফেলে দেবে।''

এ ব্যাপারে অভিজিত্‍কে প্রশ্ন করা হলে তিনি অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নন্দীগ্রামের ইতিহাস বদলে ইতিহাসেই ভরসা রাখছেন তিনি। এবং সেই ইতিহাসে ভর করেই তমলুকে নতুন ইতিহাস তৈরির স্বপ্ন দেখছেন প্রাক্তন বিচারপতি। 

Thursday, 21 March 2024

CPIM Camping বৃষ্টির মধ্যেই প্রচার তমলুকের বাম প্রার্থীর

বুধবার সকাল থেকেই তুমুল বৃষ্টি। তার মধ্যেই নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার সারলেন তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী সায়ন ব্যানার্জী। এদিন সকালে নন্দীগ্রামের দাউদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আকন্দবাড়ি বাজার থেকে সিপিআই(এম) প্রার্থীর সমর্থনে মিছিল হয়। পথচলতি সাধারণ মানুষ থেকে দোকানদার প্রত্যেকের সাথে কথা বলেন প্রার্থী।
বৃষ্টি মাথায় নিয়েই প্রার্থীর এমন প্রচারে সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল। দপুর পর্যন্ত আকন্দবাড়ি থেকে ভাটপুকুর পর্যন্ত পথে বাড়ি বাড়ি গিয়েও সাধারণ মানুষের দুর্দশার কথা শোনেন সিপিআই(এম) প্রার্থী। পাশাপাশি এলাকার প্রবীণ সিপিআই(এম) সহ বামফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন সায়ন ব্যানার্জি। এদিন বিকালে নন্দীগ্রামের ডাকবাংলো মোড় থেকে তেরপেখিয়া বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ পথ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) প্রার্থী।

অসংখ্য মানুষ আইনজীবী প্রার্থীকে কাছে পেয়ে তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। নন্দীগ্রামের এলাকায় এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির দখল, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির কথা বলেন সাধারণ মানুষ।
কয়েকটি স্থানে সংক্ষিপ্ত পথসভা হয়। সারাদিনের সিপিআই(এম) প্রার্থীর এই প্রচার কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পার্টি নেতা পরিতোষ পট্টনায়েক, ভরত মাইতি, রামহরি পাত্র, সেখ সহিদুল্লাহ,সাবির আলী সা,মহাদেব ভুঁইয়া, জন্মেঞ্জয় ভুঁইয়া সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Saturday, 16 March 2024

রাজ্যে লোকসভা ভোট সাত দফায়, সঙ্গে উপনির্বাচন দুই বিধানসভাতেও, দেখে নিন কবে-কোথায়?

বেজে গেল ভোটের বাদ্যি। শনিবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দিলেন। গোটা দেশে ১৮তম লোকসভা নির্বাচন শুরু হবে সাত দফায়। এই সাত দফাতেই ভোট হবে পশ্চিমবঙ্গে। সেই সঙ্গে রাজ্যের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। শনিবার উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করল কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গের মালদহের ভগবানগোলা এবং উত্তর ২৪ পরগনার বরাহনগরে উপনির্বাচন হবে।

ভগবানগোলায় উপনির্বাচন হবে ৭ মে। আর ১ জুন উপনির্বাচন হবে বরাহনগরে।

 পঞ্চম দফা ২০ মে— শ্রীরামপুর, ব্যারাকপুর, হুগলি, বনগাঁ, হাওড়া উলুবেরিয়া, আরামবাগ

ষষ্ঠ দফা ২৫ মে— পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, কাঁথি, তমলুক, ঘাটাল, ঝারগ্রাম, মেদিনীপুর, বিষ্ণুপুর

সপ্তম দফা ১ জুন— উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, যাদবপুর জয়নগর, বসিরহাট, বারাসত, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার, দমদম

লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা হবে ৪ জুন।
গ্রাফিক্স: শৌভিক দেবনাথ।

কোন দফায় কোথায় ভোট

প্রথম দফা ১৯ এপ্রিল— কোচবিহার আলিপুরদুয়ার জলপাইগুড়ি

দ্বিতীয় দফা ২৬ এপ্রিল— রায়গঞ্জ বালুরঘাট দার্জিলিং

তৃতীয় দফা ৭ মে— মালদহ উত্তর, মালদহ দক্ষিণ, মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর

চতুর্থ দফা ১৩ মে— বহরমপুর, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, বোলপুর, বীরভূম, বর্ধমান পূর্ব, বর্ধমান-দুর্গাপুর, আসানসোল
পঞ্চম দফা ২০ মে— শ্রীরামপুর, ব্যারাকপুর, হুগলি, বনগাঁ, হাওড়া উলুবেরিয়া, আরামবাগ
ষষ্ঠ দফা ২৫ মে— পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, কাঁথি, তমলুক, ঘাটাল, ঝারগ্রাম, মেদিনীপুর, বিষ্ণুপুর

সপ্তম দফা ১ জুন— উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, যাদবপুর জয়নগর, বসিরহাট, বারাসত, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার, দমদম

লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা হবে ৪ জুন।

লোকসভা ভোট ৭ দফায়, শুরু ১৯ এপ্রিল, ফল ৪ জুন

ওয়াল ব্যুরো: সাত দফাতেই লোকসভা ভোট হবে। শুরু ১৯ এপ্রিল। ফল প্রকাশ হবে ৪ জুন। লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই চার রাজ্যের বিধানসভা ভোট হবে। সেগুলি হল, সিকিম, ওড়িশা, অরুণাচল প্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশ।
বিস্তারিত আসছে....

Thursday, 14 March 2024

Tamluk: বিচারপতি বনাম আইনজীবী, জমে উঠেছে তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের লড়াই

কোর্ট রুমের সওয়াল জবাব নয়। এবার ভোটের ময়দানে বিচারপতি-আইনজীবী। ২০২৪-র লোকসভা ভোটে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে তমলুক। একদিকে বিজেপির বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। অন্যদিকে সিপিএমের আইনজীবী প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়।
কাজেই লড়াইটা যে হাইভোল্টেজ হয়ে উঠছে তমলুকে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
তৃণমূল কংগ্রেস এবার আবার এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে ছাত্র নেতা দেবাংশুকে। কাজেই জমে উঠবে লড়াইটা। তা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

 

আজই বামেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পরেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে যেমন একের পর এক চমক দিয়েছিল। বামেরাও কিন্তু তাঁদের সমান টক্কর দিয়েছিল। একেবারে তরুণ তুর্কিদের গুরুত্বপূর্ণ েকন্দ্রে প্রার্থী করে চমক দিয়েছে বামেরাও।

সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সৃজন, দীপ্সিতা সহ একঝাঁক তরুণ তুর্কি। এবং তাঁদের একাধিকঝুঁকি পূর্ণ হাইভোল্টেজ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। যেমনটা তমলুক কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে আইনজীবী তরুণ তুর্কি সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তৃণমূলও অবশ্য এই কেন্দ্রে বাজি রেখেছে তাঁদের জনপ্রিয় যুব নেতা দেবাংশুকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য দেবাংশু এবং সায়ন দুজনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় এবং জনপ্রিয়।

এদিকে আবার এই কেন্দ্রে বিজেপির বাজি বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক রায় দিয়ে যিনি শাসক দলের ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছিলেন সেই জনপ্রিয় বিচারপতিতে তমলুক কেন্দ্রে বাজি রেখেছে গেরুয়া শিবির। অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা এই কারণে যুব সমাজে বেশি তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

কিন্তু বাম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবার আরেকটি পরিচয় রয়েছে তিনি পেশায় আইনজীবী। কাজেই সেদিক থেকে দেখতে গেলে আবার বিচারপতি বনাম আইনজীবী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে তমলুক। তাহলে আবারও একটা কোর্টরুম দেখা যাবে সেখানে। যদিও সায়ন বলেছেন,আদালতে বিচারপতির সঙ্গে সওয়াল জবাব করা সহজ কিন্তু এটা ভোটের ময়দান এখানে প্রাক্তন বিচারপতি তাঁর প্রতিপক্ষ।

সওয়াল জবাব নয় এখানে রায়দান করবে খোদ জনতা। তাই লড়াইয়ের ময়দানটা একেবারেই আলাদা। তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাংশুও মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন। প্রচারে কোনও খামতি রাখতে তিনিও রাজি নন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তার জেরে তাঁরও যুব সমাজে বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। দেরি করে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ায় সায়নে একটু পিছিয়ে গিয়েছেন প্রচারে। তবে ময়দান ধরতে সময় লাগবে না। কারণ একটা সময়ে তমলুক বামেদের ঘাঁটি বলেই পরিচিত ছিল।

গুরুতর আহত মুখ্যমন্ত্রী, ভর্তি এসএসকেএম হাসপাতালে

ভোটের আগে গুরুতর আহত হয়ে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা তিনি বাড়িতে পড়ে গিয়ে আহত হন। কপাল থেকে রক্ত বেরিয়ে গড়িয়ে যায় নাক ও গালের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে।
এই দুঃসংবাদ জানানো হয়েছে তৃণমূলের সোশাল মিডিয়া পেজে। অনুরাগীরা তাঁর সুস্থতা কামনায় ভিড় করেছেন হাসপাতালে।

শুভেন্দুর কেন্দ্রে অভিষেকের 'সেবাশ্রয়'! কেন নন্দীগ্রাম

ডায়মন্ড হারবারের বাইরে এতদিন 'সেবাশ্রয়' প্রকল্প নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই সীমারেখা ভাঙা...