Tuesday, 26 March 2024

নন্দীগ্রামেই হাজির হলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিঅভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়।

বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রথমেই এসেছিলেন নন্দীগ্রামে। লোকসভা ভোটের প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণার পরও সেই নন্দীগ্রামেই হাজির হলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। বার বার নন্দীগ্রামের মাটি ছুঁয়েই কাজ শুরু করছেন কেন? প্রশ্ন করা হয়েছিল তাঁকে। জবাবে অভিজিত্‍ বলেছেন, ''এই নন্দীগ্রাম অনেক ইতিহাস তৈরি করেছে।
আগামী দিনেও দেখুন না নন্দীগ্রাম কী করে!''

অভিজিত্‍ যে লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী সেই তমলুকের অধীনে থাকা সাতটি বিধানসভা ক্ষেত্রের একটি নন্দীগ্রাম। যে নন্দীগ্রাম প্রকৃত অর্থেই বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস বদলে দেওয়ার সাক্ষী। সাক্ষী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থানেরও। তৃণমূলনেত্রীর মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ওঠা যে নন্দীগ্রামের কাঁধে ভর করে, সেই নন্দীগ্রামেই গত বিধানসভা ভোটে হেরেওছেন মমতা। হেরেছেন একদা তাঁর সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সঙ্গী শুভেন্দু অধিকারীর কাছেই। তাই নন্দীগ্রাম যে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ, সে ব্যাপারে অভিজিতের বক্তব্যে কোনও ভুল নেই। তবে কি সে জন্যই নন্দীগ্রামে ফিরে ফিরে যাচ্ছেন অভিজিত্‍? 
গত ৭ মার্চ বিজেপিতে যোগদান করেছেন অভিজিত্‍। তার ঠিক পাঁচ দিনের মাথায় ১২ মার্চ তিনি প্রথম রাজনৈতিক সফরে যান নন্দীগ্রামে। অভিজিত্‍কে যে তমলুক থেকে লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী করা হতে পারে, সে ব্যাপারে জল্পনা শুরু হয়েছে তার অনেক আগে থেকেই। কিন্তু বিজেপির তরফে তখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবু শুভেন্দুকে 'গাইড' হিসাবে সঙ্গে নিয়ে নন্দীগ্রামের জমি দেখে গিয়েছিলেন অভিজিত্‍। কথা বলেছিলেন স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে। বুঝে নিয়েছিলেন মাটি কতটা শক্ত। গিয়েছিলেন শুভেন্দুর বাড়ি 'শান্তিকুঞ্জে'ও। শিশিরের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নিয়েছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি। 

তার ১৫ দিন পর তমলুকের ভোট ময়দানে বিজেপির ঘোষিত লোকসভা প্রার্থী হিসাবে কাজ শুরু করলেন অভিজিত্‍। গত ২৪ মার্চ তমলুকের প্রার্থী হিসাবে অভিজিতের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। তারদু'দিনের মধ্যেই তিনি চলে এলেন সেই নন্দীগ্রামে। আর এ বারও তাঁর সঙ্গী সেই শুভেন্দু। অভিজিত্‍কে পাশে নিয়ে মঙ্গলবার শুভেন্দু বললেন, ''এই নন্দীগ্রামে বসে আমরা ঠিক করেছিলাম শহিদদের প্রতিনিধি ফিরোজা বিবিকে প্রার্থী করা হবে। সেই সিদ্ধান্তে মানুষ সমর্থন করেছিল। এ বারও আমরা মানুষের কথা ভেবে প্রার্থী ঠিক করেছি। এ বারের ভোটের দু'টি ইস্যুর সবচেয়ে বড়টি হল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি। গোটা শিক্ষা দফতরটাই জেলে। তাই আমরা জানি, মানুষ কাকে সমর্থন করবে। আর কাদের ছুড়ে ফেলে দেবে।''

এ ব্যাপারে অভিজিত্‍কে প্রশ্ন করা হলে তিনি অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নন্দীগ্রামের ইতিহাস বদলে ইতিহাসেই ভরসা রাখছেন তিনি। এবং সেই ইতিহাসে ভর করেই তমলুকে নতুন ইতিহাস তৈরির স্বপ্ন দেখছেন প্রাক্তন বিচারপতি। 

Thursday, 21 March 2024

CPIM Camping বৃষ্টির মধ্যেই প্রচার তমলুকের বাম প্রার্থীর

বুধবার সকাল থেকেই তুমুল বৃষ্টি। তার মধ্যেই নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার সারলেন তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী সায়ন ব্যানার্জী। এদিন সকালে নন্দীগ্রামের দাউদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আকন্দবাড়ি বাজার থেকে সিপিআই(এম) প্রার্থীর সমর্থনে মিছিল হয়। পথচলতি সাধারণ মানুষ থেকে দোকানদার প্রত্যেকের সাথে কথা বলেন প্রার্থী।
বৃষ্টি মাথায় নিয়েই প্রার্থীর এমন প্রচারে সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল। দপুর পর্যন্ত আকন্দবাড়ি থেকে ভাটপুকুর পর্যন্ত পথে বাড়ি বাড়ি গিয়েও সাধারণ মানুষের দুর্দশার কথা শোনেন সিপিআই(এম) প্রার্থী। পাশাপাশি এলাকার প্রবীণ সিপিআই(এম) সহ বামফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন সায়ন ব্যানার্জি। এদিন বিকালে নন্দীগ্রামের ডাকবাংলো মোড় থেকে তেরপেখিয়া বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ পথ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) প্রার্থী।

অসংখ্য মানুষ আইনজীবী প্রার্থীকে কাছে পেয়ে তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। নন্দীগ্রামের এলাকায় এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির দখল, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির কথা বলেন সাধারণ মানুষ।
কয়েকটি স্থানে সংক্ষিপ্ত পথসভা হয়। সারাদিনের সিপিআই(এম) প্রার্থীর এই প্রচার কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পার্টি নেতা পরিতোষ পট্টনায়েক, ভরত মাইতি, রামহরি পাত্র, সেখ সহিদুল্লাহ,সাবির আলী সা,মহাদেব ভুঁইয়া, জন্মেঞ্জয় ভুঁইয়া সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Saturday, 16 March 2024

রাজ্যে লোকসভা ভোট সাত দফায়, সঙ্গে উপনির্বাচন দুই বিধানসভাতেও, দেখে নিন কবে-কোথায়?

বেজে গেল ভোটের বাদ্যি। শনিবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দিলেন। গোটা দেশে ১৮তম লোকসভা নির্বাচন শুরু হবে সাত দফায়। এই সাত দফাতেই ভোট হবে পশ্চিমবঙ্গে। সেই সঙ্গে রাজ্যের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। শনিবার উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করল কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গের মালদহের ভগবানগোলা এবং উত্তর ২৪ পরগনার বরাহনগরে উপনির্বাচন হবে।

ভগবানগোলায় উপনির্বাচন হবে ৭ মে। আর ১ জুন উপনির্বাচন হবে বরাহনগরে।

 পঞ্চম দফা ২০ মে— শ্রীরামপুর, ব্যারাকপুর, হুগলি, বনগাঁ, হাওড়া উলুবেরিয়া, আরামবাগ

ষষ্ঠ দফা ২৫ মে— পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, কাঁথি, তমলুক, ঘাটাল, ঝারগ্রাম, মেদিনীপুর, বিষ্ণুপুর

সপ্তম দফা ১ জুন— উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, যাদবপুর জয়নগর, বসিরহাট, বারাসত, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার, দমদম

লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা হবে ৪ জুন।
গ্রাফিক্স: শৌভিক দেবনাথ।

কোন দফায় কোথায় ভোট

প্রথম দফা ১৯ এপ্রিল— কোচবিহার আলিপুরদুয়ার জলপাইগুড়ি

দ্বিতীয় দফা ২৬ এপ্রিল— রায়গঞ্জ বালুরঘাট দার্জিলিং

তৃতীয় দফা ৭ মে— মালদহ উত্তর, মালদহ দক্ষিণ, মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর

চতুর্থ দফা ১৩ মে— বহরমপুর, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, বোলপুর, বীরভূম, বর্ধমান পূর্ব, বর্ধমান-দুর্গাপুর, আসানসোল
পঞ্চম দফা ২০ মে— শ্রীরামপুর, ব্যারাকপুর, হুগলি, বনগাঁ, হাওড়া উলুবেরিয়া, আরামবাগ
ষষ্ঠ দফা ২৫ মে— পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, কাঁথি, তমলুক, ঘাটাল, ঝারগ্রাম, মেদিনীপুর, বিষ্ণুপুর

সপ্তম দফা ১ জুন— উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, যাদবপুর জয়নগর, বসিরহাট, বারাসত, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার, দমদম

লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা হবে ৪ জুন।

লোকসভা ভোট ৭ দফায়, শুরু ১৯ এপ্রিল, ফল ৪ জুন

ওয়াল ব্যুরো: সাত দফাতেই লোকসভা ভোট হবে। শুরু ১৯ এপ্রিল। ফল প্রকাশ হবে ৪ জুন। লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই চার রাজ্যের বিধানসভা ভোট হবে। সেগুলি হল, সিকিম, ওড়িশা, অরুণাচল প্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশ।
বিস্তারিত আসছে....

Thursday, 14 March 2024

Tamluk: বিচারপতি বনাম আইনজীবী, জমে উঠেছে তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের লড়াই

কোর্ট রুমের সওয়াল জবাব নয়। এবার ভোটের ময়দানে বিচারপতি-আইনজীবী। ২০২৪-র লোকসভা ভোটে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে তমলুক। একদিকে বিজেপির বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। অন্যদিকে সিপিএমের আইনজীবী প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়।
কাজেই লড়াইটা যে হাইভোল্টেজ হয়ে উঠছে তমলুকে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
তৃণমূল কংগ্রেস এবার আবার এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে ছাত্র নেতা দেবাংশুকে। কাজেই জমে উঠবে লড়াইটা। তা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

 

আজই বামেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পরেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে যেমন একের পর এক চমক দিয়েছিল। বামেরাও কিন্তু তাঁদের সমান টক্কর দিয়েছিল। একেবারে তরুণ তুর্কিদের গুরুত্বপূর্ণ েকন্দ্রে প্রার্থী করে চমক দিয়েছে বামেরাও।

সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সৃজন, দীপ্সিতা সহ একঝাঁক তরুণ তুর্কি। এবং তাঁদের একাধিকঝুঁকি পূর্ণ হাইভোল্টেজ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। যেমনটা তমলুক কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে আইনজীবী তরুণ তুর্কি সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তৃণমূলও অবশ্য এই কেন্দ্রে বাজি রেখেছে তাঁদের জনপ্রিয় যুব নেতা দেবাংশুকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য দেবাংশু এবং সায়ন দুজনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় এবং জনপ্রিয়।

এদিকে আবার এই কেন্দ্রে বিজেপির বাজি বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক রায় দিয়ে যিনি শাসক দলের ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছিলেন সেই জনপ্রিয় বিচারপতিতে তমলুক কেন্দ্রে বাজি রেখেছে গেরুয়া শিবির। অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা এই কারণে যুব সমাজে বেশি তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

কিন্তু বাম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবার আরেকটি পরিচয় রয়েছে তিনি পেশায় আইনজীবী। কাজেই সেদিক থেকে দেখতে গেলে আবার বিচারপতি বনাম আইনজীবী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে তমলুক। তাহলে আবারও একটা কোর্টরুম দেখা যাবে সেখানে। যদিও সায়ন বলেছেন,আদালতে বিচারপতির সঙ্গে সওয়াল জবাব করা সহজ কিন্তু এটা ভোটের ময়দান এখানে প্রাক্তন বিচারপতি তাঁর প্রতিপক্ষ।

সওয়াল জবাব নয় এখানে রায়দান করবে খোদ জনতা। তাই লড়াইয়ের ময়দানটা একেবারেই আলাদা। তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাংশুও মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন। প্রচারে কোনও খামতি রাখতে তিনিও রাজি নন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তার জেরে তাঁরও যুব সমাজে বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। দেরি করে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ায় সায়নে একটু পিছিয়ে গিয়েছেন প্রচারে। তবে ময়দান ধরতে সময় লাগবে না। কারণ একটা সময়ে তমলুক বামেদের ঘাঁটি বলেই পরিচিত ছিল।

গুরুতর আহত মুখ্যমন্ত্রী, ভর্তি এসএসকেএম হাসপাতালে

ভোটের আগে গুরুতর আহত হয়ে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা তিনি বাড়িতে পড়ে গিয়ে আহত হন। কপাল থেকে রক্ত বেরিয়ে গড়িয়ে যায় নাক ও গালের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে।
এই দুঃসংবাদ জানানো হয়েছে তৃণমূলের সোশাল মিডিয়া পেজে। অনুরাগীরা তাঁর সুস্থতা কামনায় ভিড় করেছেন হাসপাতালে।

Tuesday, 12 March 2024

দেবাংশুকে কতটা এগিয়ে রাখছে তমলুক? পিছনে কোন অঙ্ক?

তমলুক, নন্দীগ্রাম : অধিকারীদের হাতে ছিল তমলুক কেন্দ্র। ২০১৯-এ জয়ী হয়ে সাংসদ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। এবার ওই কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষণা করেনি পদ্ম শিবির। এই মধ্যেই নাম ঘোষণা করে দিয়েছে তৃণমূল। প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূলের যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য।
প্রশ্ন উঠছে, তমলুকের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দেবাংশকে কি গ্রহণ করবে মানুষ? উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রে বিজেপি কারও নাম না ঘোষণা করলেও এলাকায় শুরু হয়েছে দেওয়াল লিখন। দেওয়ালে লেখা হচ্ছে প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম।

কী বলছেন দেবাংশ?

বয়সের বিচারেই নাকি এগিয়ে যাবেন তিনি। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর এ কথা বলেছেন দেবাংশু। তিনি বলেন, একজন ২৮ বছরের যুবক নাকি ৬১ বছরের প্রাক্তন বিচারপতি, কাকে মানুষ বেছে নেবে, সেটা মানুষই বলবে। তিনি মনে করেন তাঁর পক্ষেই আগে ছুটে যাওয়া সম্ভব হবে।

কী বলছেন এলাকার মানুষজন?
শ্যামাপ্রসাদ তিওয়ারি নামে এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, পরীক্ষায় যদি কড়া গার্ড দেওয়া হয়, তাহলে ২ লক্ষ ভোটে জিতবেন অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায় আর না হলেও ১ লক্ষ ভোটে জিতবেনই। দেবাংশুর সঙ্গে কোনও লড়াই হবে বলে মনে করেন না তিনি। দেবাংশু নাকি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়? চায়ের দোকানে বসে এই প্রশ্ন শুনে এক বৃদ্ধ সোজাসুজি বলেন, অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। আর কোনও বিকল্পের কথা ভাবতেই রাজি নন তিনি।

তবে গ্রামবাসীদের একাংশ মনে করছেন বিজেপিতে গিয়ে বিচারপতি পদের মাহাত্ম্য খুইয়েছেন অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। তাই জিতবেন দেবাংশু। শিক্ষিত, স্বচ্ছ যুবক হিসেবে তাঁকে এগিয়ে রাখছেন অনেকেই। এক বাসিন্দা বলেন, লড়াই কঠিন হবে না। বিচারপতি ছিলেন। উনি বিচার ব্যবস্থার কলঙ্ক। অনেক চাকরি ঝুলে রয়েছে। দেবাংশুকে স্বচ্ছ ও শিক্ষিত যুবক হিসেবে এগিয়ে রাখছেন তিনি।
কী বলছেন রাজনীতিকরা?

উল্লেখ্য, দেবাংশু ভূমি-পুত্র নন। রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতাও খুব বেশিদিনের নয়। তারপরও কোন অঙ্কে তাঁকে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দেবে তৃণমূল? নন্দীগ্রামের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি আব্দুল তাজামুল আলি খানের বক্তব্য, যুব আইকন দেবাংশু জিতে যাবেন অনায়াসে।

আর বিজেপির কাছে তাস সেই নন্দীগ্রাম। ওই বিধানসভা কেন্দ্র তমলুকের অন্তর্গত। আর ওই কেন্দ্র থেকেই একুশের বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই তমলুক নিয়ে আশাবাদী বিজেপি। তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সদস্য অভিজিত্‍ মাইতি বলেন, তৃণমূলের মূল মাথাকেই হারিয়ে দিয়েছে নন্দীগ্রাম। তাই তৃণমূল যাকেই টিকিট দিক, পদ্মই জিতবে তমলুকে।

Monday, 11 March 2024

কোনও বৈষম্য মানব না, CAA রাজ্যে লাগু হতে দেব না: মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: দেশজুড়ে কার্যকর হল সিএএ ।সিএএ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করল কেন্দ্র। সিএএ তত্‍পরতার মধ্যেই নবান্নে জরুরী বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'কোনও বৈষম্য মানব না, CAA রাজ্যে লাগু হতে দেব না।'
'কোনও বৈষম্য মানব না'
তিনি এদিন স্পষ্ট বলেন, ' নির্বাচনের আগে কেন CAA কার্যকরের চেষ্টা ?
CAA আইন পাশের পরে বারবার এক্সটেনশন করে আজকে চারবছর লেগে গেল। নির্বাচনের মুখেই এটা করার প্রয়োজন পড়ল তার কারণ, এটা একটা রাজনৈতিক পরিকল্পনা। যে নিয়মটা করা হয়েছে, সেখানে কী বলা হয়েছে। এটা ভোটের আগে মানুষের সঙ্গে ছলনার চেষ্টা, কোনও বৈষম্য মানব না। যদি সিএএ নিয়ে নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়, তাহলে তীব্র প্রতিবাদ করা হবে।সিএএ-র নাম করে ডিটেনশন ক্যাম্প রেখে দেবে, তা হবে না। এটা ছলনা। যারা বাংলায় বসবাস করেন, দেশে বসবাস করেন তাঁরা প্রত্যেকে নাগরিক। সিএএ রাজ্যে লাগু হতে দেব না।', হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর।

'এই জন্যই কি মতুয়াদের আধার কার্ড বাতিল হচ্ছিল?'

তৃণমূল সুপ্রিমো সুপ্রিমো আরও বলেন, 'আমরা এখনও নোটিফিকেশনটা পাইনি। পুরোটা রিপোর্ট দেখার পর কাগজ পাওয়ার পর ডিটেলটা হাবড়ার মিটিং থেকে বলব। যদি কোনও বৈষম্য হয় সেই জিনিষ আমরা মানি না।' তিনি আরও বলেন, 'এটা যেনও ছেলের হাতের মোয়া, ললিপপ এই ২ দিনে তো কাউকে দিতে পারবে না। বলবে পোর্টালে নাম লেখান। পোর্টালে তো সবাই নাম লেখাবে। আজকে যদি ক্যা (CAA) করে বলেন আপনারা নাগরিক তাহলে কি এদিন নাগরিক ছিল না? এই জন্যই কি মতুয়াদের আধার কার্ড বাতিল হচ্ছিল? জমিজমা করেছে, চাকরি করছে তারমানে সেগুলো সব বাতিল? আইনত হবে তো বিষয়টা? প্রশ্ন তোলেনএদিন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন,' এতদিন এদের ভোটেই তো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছে, এদের ভোটের কোনও মূল্য নেই।'

'তৃণমূল কংগ্রেস আওয়াজ তুলবে আলোড়ন তুলবে'

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন,' যারা বাংলায় বসবাস করেন, দেশে বসবাস করেন তাঁরা প্রত্যেকে নাগরিক। তাঁদের সব অধিকার নতুন আইন বাতিল করে দেবে না তো? আমার মাথায় আসছে তার কারণ পুরনো বিলে তাই ছিল। নর্থ ইস্টেও কিন্তু এটা খুব সেনসিটিভি। নতুন করে অশান্তি হোক সেখানে চাই না। আজকের দিনটাই কেন বেছে নেওয়া হয়েছে আমি জানি। আপনারা ভাল করে রোজা, রমজান পালন করুন। তৃণমূল কংগ্রেস আওয়াজ তুলবে আলোড়ন তুলবে। তার সূচনাটা করে দিয়ে গেলাম।'

শুভেন্দুর কেন্দ্রে অভিষেকের 'সেবাশ্রয়'! কেন নন্দীগ্রাম

ডায়মন্ড হারবারের বাইরে এতদিন 'সেবাশ্রয়' প্রকল্প নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই সীমারেখা ভাঙা...